আহালান ওয়া সাহালান, খোশ আমদেদ মাহে রমাদান।

 আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, আহলান ওয়া সাহালান, মারহাবা তৈয়্যেবান, খোশ আমদেদ মাহে রামাদান।

রমাদান মাস বছরের অন্য এগারোটি মাসের চাইতে অতি উত্তম মাস। এ মাস রহমত বরকত ও নাজাতের মাস।

রমাদান মাসের আগমনে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে আবেগ অনুভুতি উদগলিত হয়, এ মাস মহান রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভের অন্যতম মাস, এ মাস আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাস কুরআন নাজিলের মাস, এ মাসে এমন একটি মহিমান্বিত রজনি রয়েছে যা হাজার মাসের চাইতেও উত্তম। এ মাসে গুনাগার পাপী বান্দা মহান রাব্বুল আলামিনের ক্ষমার মহিমায় উজ্জীবিত হন।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। সুরা বাকারা, আয়াত  একশো তিরাশি।

হাদিসে বর্ণিত আছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, শাবান মাসে বিশেষ একটি দোয়া করতেন, "আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি শাবান ওয়া বল্লিগনা রমাদান" অর্থাৎ - হে আল্লাহ,  আপনি আমাদের জন্য শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং রমজান পর্যন্ত হায়াত দান করুন, সুবহানাল্লাহ।

এতে করে বুঝা যায় রমাদান মাস কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ মাস! 

রমদান কে আরবিতে বহুবচনে সিয়াম আর একক বচনে সওম ও বলা হয়,  সওম মানে বিরত থাকা, অর্থাৎ সকল প্রকার মন্দ কাজ এবং সকল প্রকার পানাহার ও দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।

তেমনি রমাদান ও আরবি শব্দ !   এর অর্থ হচ্ছে,  প্রচন্ড গরম- উত্তপ্ত, পুড়ে যাওয়া বা ঝলসে যাওয়া, সেদ্ধ হওয়া, জ্বর তাপ ইত্যাদি।
অর্থাৎ রমাদানে ক্ষুদায়- তৃষ্ণার রোজাদারদের পেটে আগুন জ্বলে।
রমাদান মাসে,  পাপ-তাপে পুড়ে ছাই হয়ে রোজাদার নিষ্পাপ হয়ে যায়।
এই মাসে তওবা ইস্তেগফারের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন হয় বলে, একে পবিত্র মাস ও বলা হয়।

শুধু মাত্র বাহ্যিক পানাহার ত্যাগ করার মাধ্যমে রোজা পালন হয় না, রোজা পালনে অভ্যান্তরিক বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যেমন, আল্লাহর প্রতি অনুগত হওয়া, তাকওয়া অর্জন করা, পাপ কাজ ছেড়ে দেয়া, এবং রমাদান থেকে শিক্ষা গ্রহন করা, অন্যথায় সিয়াম পালন করা আর শুধুই উপবাস থাকা একই কথা।

ভোররাতে সাহেরি দিনের শেষে ইফতার এবং সকল ফরজ নামাজ, তারাবিহ তাহাজ্জুদ কুরআন তেলাওয়াত, যাকাত ফিতরা দান সদাকার মাধ্যমে এই মাস পালান করা হয়।

রমাদান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ  হচ্ছে - কালেমা নামাজ রোজা হজ্জ ও যাকাত।

আল্লাহর ভয়ে সকল নিষেধাজ্ঞা হতে বিরত থেকে তাকওয়া অর্জন ও নৈকট্য লাভ করাই রমাদান মাসের মূল লক্ষ্য।

হাদিসে বর্ণিত আছে, রমাদান মাসের এক একটি নেক আমলের বিনিময়ে সত্তুর গুন  সওয়াব দান করা হয়। এবং একটি নফল ইবাদতের বিনিময়ে ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব দান করা হয়।

আরেকটি হাদিসে বলা হয়েছে, যে কোনো রোজাদার ব্যাক্তিকে অন্যকেউ ইফতার কারালে সে ঐ রোজাদার ব্যাক্তির সমান সওয়াব লাভ করিবেন, এতে ঐ রোজাদারের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না।

অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের ঘ্রাণের চেয়েও বেশি সুগন্ধযুক্ত।

হাদিসে কুৎসির মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা জানিয়ে দেন, রমাদান আল্লাহর জন্যে তাই রমাদানের প্রতিদান আল্লাহ তাঁর নিজের হাতেই দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়াও বর্তমান আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও দাবী করে বলছেন, রোজা পালন মানবদেহের জন্যে অত্যান্ত উপাকরী, এমন কি ক্যান্সারের মত রোগ থেকে মুক্তি মিলবে রোজা পালনের মাধ্যমে।  সুবহানাল্লাহ।

তাই আসুন আন্তরিকতার সহিত এই রমাদান মাসকে ইবাদতের মাধ্যমে উদযাপিত করি, হতে পারে এটাই আপনার জীবনের সর্বশেষ রমাদান।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদেরকে রমদানের দাবী অনুযায়ী সঠিক আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ইসকন কি? কোথায় কখন এর জন্ম হয়েছে?

পৃথিবী সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে আপনার তকদীর কি ভাবে লিখা হয়েছিল জেনে নিন।